বাবা-মা হওয়ার জন্য আপনারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আপনাদের অভিনন্দন!
নিঃসন্দেহে জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আনন্দদায়ক একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন আপনারা।
এ সময়ে গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণগুলো জানা ভাবী মা-বাবা হিসেবে আপনাদের উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর সাথে মাসিক-পূর্ব লক্ষণগুলোর কিছু মিল থাকে। এ কারণে সত্যিই গর্ভধারণ হয়েছে কিনা বুঝতে অনেক সময় সন্দেহ তৈরি হয়। এ বিষয়টি আরও বেশি ঘটে যারা প্রথমবার মা হচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে।
আবার অনেকের ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায় যে, শেষ পিরিয়ড যে তারিখে হয়েছিল তার কিছুটা আগেই গর্ভধারণের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর বিপরীতটাও কখনো ঘটতে পারে। অর্থাৎ গর্ভধারণ করার পরে শেষ পিরিয়ডের তারিখ পার হয়ে যাওয়ার পরেও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভধারণের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।
গর্ভধারণের লক্ষণ কিছুটা আগে প্রকাশ পাওয়া বা কিছুটা দেরিতে প্রকাশ পাওয়া – এ উভয় অবস্থায়ই স্বাভাবিক। অনেকের ক্ষেত্রে আবার গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পরেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন বা লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এ অবস্থাকেও সাধারণত স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়।
গর্ভধারণের চিহ্নসমূহ যেগুলো দেখে হবু বাবা-মা গর্ভধারণ হয়েছে বুঝতে পারবেন, কখন প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হবে এবং কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এরকম মৌলিক কিছু বিষয় যা হবু বাবা-মায়ের জানা উচিত তা আলোচনা করা হবে এ নিবন্ধে।
যেসব চিহ্ন দেখে বুঝবেন মা গর্ভবতী হয়েছেন
শুরুতেই প্রেগন্যান্সির সাধারণ লক্ষণগুলো জেনে নেয়া যাক। এ চিহ্নগুলো দেখেই গর্ভাবস্থার একেবারে শুরুতে ধারণা করতে হয় যে মায়ের গর্ভ সঞ্চার হয়েছে।
নিয়মিত পিরিয়ড বা মাসিক হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া
গর্ভধারণের সাথে সাথে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়। নিয়মিত পিরিয়ড বা মাসিক হয় এমন নারীদের জন্য মাসিক হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া হলো গর্ভাবস্থার স্পষ্ট লক্ষণ। তবে কেবল পিরিয়ড বন্ধ হওয়া দেখেই গর্ভসঞ্চার হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। কারণ অনেক সময় পিরিয়ডের হিসাব রাখা হয় না আবার অনেকের ক্ষেত্রে পিরিয়ড নিয়মিত হয় না। গর্ভসঞ্চার হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায় আল্ট্রাসনো পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে। তবে তার আগে প্রেগন্যান্সি কিটের মাধ্যমে প্রস্রাব পরীক্ষা করেও আরও সহজে গর্ভধারণ হয়েছে কিনা বোঝা যায়।
স্তনে ব্যথা
গর্ভধারণের সাথে সাথে মায়ের শরীরে প্রচুর পরিমাণে এসট্রোজেন ও প্রোজেসটেরোন নামক হরমোন তৈরি হতে থাকে ফলে স্তনের গ্রন্থি গুলো ফুলে যায়। গর্ভাবস্থায় হরমোনের এই বৃদ্ধি স্তনে বেশি তরল ধরে রাখে। ফলে স্বাভাবিক অবস্থার চাইতে ভারী লাগে এবং বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এ কারণে গর্ভধারণের প্রথম সপ্তাহে অথবা পরপরই স্তন ফুলে যেতে দেখা যায়, স্তন ভারী হয়ে যায় এবং স্তনে ব্যথা অনুভূত হয়। প্রায় প্রতি ২ জনে ১ জন মায়ের প্রথম গর্ভধারণের সময়ে স্তনে ব্যথা হতে দেখা যায়।
তলপেটে ব্যথা বা খিঁচুনি, পিঠব্যথা এবং শ্রোণি অঞ্চলে ব্যথা
অনেকেই তলপেটে ব্যথা, শ্রোণী অঞ্চলে ব্যথা বা পিঠে ব্যথাকে মাসিকের চিহ্ন মনে করেন। পিরিয়ড শুরুর আগে শরীরে এ চিহ্নগুলো দেখা দিতে পারে। তবে এগুলো গর্ভাবস্থার চিহ্নও বটে। ভ্রুণ সঞ্চার, হরমোনের পরিবর্তন এবং জরায়ুর বৃদ্ধির কারণেও নতুন মায়ের তলপেটে খিঁচুনি, পিঠে ব্যথা এবং শ্রোণি অঞ্চলে ব্যথা হতে পারে।
গর্ভসঞ্চারের সময় রক্তস্রাব
সাধারণত গর্ভ সঞ্চার হলে পিরিয়ড বন্ধ হয়। তবে গর্ভ সঞ্চার হলেও যোনিপথে সামান্য রক্ত যেতে পারে। একে অনেকে পিরিয়ড বলে ভুল করেন। যখন নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুতে স্থাপিত হয়, তখন যোনিপথে অল্প পরিমাণ রক্ত নিঃসৃত হতে পারে। একে ইমপ্লানটেশন ব্লিডিং বলা হয়।
গর্ভধারণ হলে যে রক্ত যায় তা পিরিয়ডের রক্তের মত গাঢ় লাল বর্ণের হয় না বরং হালকা গোলাপি বা বাদামি রঙের হয়। গর্ভধারণের সময় রক্ত গেলে সেটা অল্প পরিমাণে হয়, তবে পিরিয়ডের রক্ত অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু হলেও তা আস্তে আস্তে ভারি হয়। গর্ভধারণের পর রক্ত গেলে তা সাধারণত কয়েক ঘণ্টা থেকে ৩ দিন পর্যন্ত হতে পারে। এর থেকে বেশি সময় ধরে যদি রক্ত যেতে থাকে তাহলে সেটা সাধারণত পিরিয়ডের কারণে হয়। গর্ভধারণ হলে যে রক্ত যায় তা সাধারণত চাক চাক হয় না, তবে পিরিয়ডের রক্ত চাকা চাকা হতে পারে। মাসিক হলে যে তীব্র পেটব্যথা হয় গর্ভধারণের শুরুতে রক্ত গেলে ততটা পেট ব্যথা হয় না তবে সামান্য পেট ব্যথা হতে পারে।
গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে যোনিপথে রক্ত গেল কিনা তা খেয়াল রাখা দরকার। অনেক সময় প্রথম তিন মাসে রক্ত নির্গত হওয়া গর্ভ নষ্ট হওয়ার লক্ষণ হতে পারে আবার কখনো একটপিক প্রেগন্যান্সির কারণেও রক্ত যেতে পারে। কাজেই এ সময়ে যোনিপথে যে কোনো ধরনের রক্ত নিঃসরণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ক্লান্তি
গর্ভধারণের ফলে মা হঠাৎ করে ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করতে পারে। গর্ভধারণের প্রথম কয়েক সপ্তাহে, ভ্রুণের জায়গা করে দিতে মায়ের শরীরে অতি দ্রুত বেশ কিছু বড় পরিবর্তন ঘটে, এর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে মা ক্লান্ত অনুভব করে। সাধারণত শরীরে বিভিন্ন হরমোনের তারতম্যের কারণে মায়ের শরীরে এ ধরনের ক্লান্তি দেখা যায়। এছাড়া ক্ষুধামান্দ্য ও কম খাওয়ার ফলেও এই ক্লান্তি ও দুর্বলতা বাড়ে।
আবার যেহেতু জরায়ুতে ভ্রুণের জন্য অতিরিক্ত অক্সিজেন প্রয়োজন হয়, ফলে এই অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে মায়ের শ্বাস-প্রশ্বাসও দ্রুত হয়।
এ অবস্থায় মায়ের উচিত গর্ভধারণের শুরুতেই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভিটামিনগুলো গ্রহণ করা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ করা যাতে রক্তচাপ খুব নেমে না যায়। এছাড়াও সুযোগমত যতটা সম্ভব বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
স্তনের বোঁটার চারপাশ গাঢ় হওয়া
গর্ভধারণের ফলে স্তনবৃন্ত বা স্তনের বোঁটার চারপাশের গোলাকার রঙিন অংশ আরও গাঢ়বর্ণ ধারণ করে। গর্ভধারণের ফলে যে নতুন হরমোন নিঃসৃত হয় তা, স্তনের বোঁটার রং যে মেলানোসাইট কোষের কারণে রঙিন হয়, গর্ভধারণের ফলে সেই মেলানোসাইট কোষগুলো প্রভাবিত হয়। যাদের গায়ের রঙ কিছুটা কালো তারা এই পরিবর্তন ততটা স্পষ্ট নাও হতে পারে।
বমিভাব
গর্ভধারণের কয়েকসপ্তাহ পরে সাধারণত সকালবেলায় ঘুম থেকে ওঠার পর প্রচণ্ড বমিভাব বা বমি হয়ে থাকে একে মর্নিং সিকনেস বলা হয়। গর্ভধারণের প্রথম চার-পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত বমিভাব তীব্র হতে পারে। এটি গর্ভধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। কেনে গর্ভধারণের সময় বমিভাব হয় তার সঠিক কারণ এখনো অজানা। তবে ধারণা করা হয় যে, গর্ভধারণের ফলে হরমোন এবং বিপাক প্রক্রিয়ায় যে বিপুল পরিবর্তন ঘটে তা এই গর্ভকালীন বমির কারণ হতে পারে।
পেট ফাঁপা
গর্ভধারণের ফলে হঠাৎ করে পেট স্বাভাবিকের চেয়ে ফাঁপা লাগতে পারে। তবে অনেক সময় মাসিকের আগেও পেট ফাঁপতে পারে। তবে মাসিক শুরুর সাথে সাথে সেই পেট ফাঁপা ভাব চলে যায়। কিন্তু একইসাথে মাসিক বিলম্বিত হতে থাকে এবং পেট ফাঁপাও থাকে তবে ধারণা করা যায় যে আপনার গর্ভসঞ্চার হয়েছে এবং প্রেগন্যান্সি টেস্টে পজিটিভ ফল আসতে পারে।
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
ভ্রুণের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে মূত্রথলির ওপর চাপ বাড়তে থাকে, ফলে গর্ভধারণ কালে একটু পরপর প্রস্রাবের বেগ আসে। তবে ভ্রুণসঞ্চারের শুরুতেও ঘন ঘন প্রস্রাব হতে দেখা যায় সাধারণত। এর কারণ গর্ভধারণের সাথে সাথেই মায়ের কিডনিতে অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহ হতে থাকে ফলে অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি হয়। তবে কেবল ঘন ঘন প্রস্রাব দেখেই গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়া যায় না। তা না হওয়া গেলেও এরকম ক্ষেত্রে পানি বা তরল জাতীয় খাবার খাওয়া কমানো যাবে না। কারণ গর্ভসঞ্চার হলে মায়ের শরীরে যে অতিরিক্ত রক্তের প্রয়োজন হয় তার জন্য অতিরিক্ত তরল অত্যন্ত জরুরী।
অতিরিক্ত ক্ষুধা অথবা অরুচি
গর্ভাবস্থায় সারাক্ষণ খাবার ইচ্ছা হওয়া আবার তীব্র অরুচি দুটোই স্বাভাবিক। তবে একেবারে শুরুতে অনেক সময় ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। খাবার দ্রুত হজম হয়ে যায় বলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগতে পারে। আবার এর উল্টোটাও ঘটতে দেখা যায়। খাবারের প্রতি অরুচি এ সময়ে ঘটা স্বাভাবিক এমনকি পছন্দের খাবারও খেতে ইচ্ছা না হতে পারে।
মাথাব্যথা
গর্ভধারণের ফলে মায়ের শরীরে যে অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহ শুরু হয় তার কারণে প্রায়ই হালকা মাথাব্যথা হতে পারে। এটি গর্ভধারণের একটি প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচ্য। যদি আপনার শরীরে রক্তস্বল্পতা থাকে বা আপনি শরীরে পর্যাপ্ত তরল না গ্রহণ না করেন তাহলে, এ ধরনের মাথাব্যথা বাড়তে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য
কোষ্ঠকাঠিন্য গর্ভাবস্থার একটি চিহ্ন। যে হরমোনের কারণে প্রেগন্যান্সির সময় পেট ফাঁপা হয়, সেই একই হরমোনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যও হয়। গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য রোধের উপায় হিসেবে শারীরিক পরিশ্রম করা প্রয়োজন। এছাড়া প্রচুর পানি পান করা এবং উচ্চ-আঁশ রয়েছে এমন খাবার গ্রহণে গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানো সম্ভব। যদি সমস্যা না কমে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
মেজাজ হারানো বা মুড সুইং
মেজাজ হারানো গর্ভাবস্থার একটি চিহ্ন। গর্ভাবস্থার হরমোনের পরিবর্তনের কারণে নতুন মা তীব্র ক্লান্তি বোধ করতে পারেন। এই ক্লান্তি থেকেই হঠাৎ করে কান্না পাওয়া বা রেগে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও মাথাব্যথা, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা স্তনে ব্যথার মতো নানা ধরনের শারীরিক কষ্টগুলোর কারণেও নতুন মা মেজাজ হারাতে পারে বা মেজাজ খিটখিটে হতে পারে।
স্রাব নিঃসরণ
গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে, জরায়ুপথটি এক ধরনের ঘন মিউকাস দিয়ে বন্ধ হয়ে যায় যাতে জরায়ুর মধ্যে শিশু জীবাণুর সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকে। এর ফলে হালকা সাদা রঙের স্রাব নির্গত হতে পারে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও স্রাব নির্গত হতে পারে। খেয়াল করতে হবে যে, সাধারণ স্রাব গন্ধহীন হবে এবং এর ফলে কোনো প্রকার জ্বালাপোড়া বা চুলকানি হবে না। যদি স্রাবে গন্ধ থাকে এবং জ্বালাপোড়া বা চুলকানি থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ব্রণ
গর্ভাবস্থার শুরুতে ব্রণ বা অন্যান্য চর্মরোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় ব্রণ বা চর্মরোগ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন বা ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ গর্ভাবস্থায় এ ধরণের ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকার সম্ভাবনা অধিক।
প্রেগন্যান্সির প্রথম দিকের লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন?
মনে রাখতে হবে গর্ভাবস্থার যে প্রাথমিক লক্ষণগুলো এখানে আলোচিত হলো এর কোনোটিই ১০০% নিশ্চিত করে না যে আপনি গর্ভবতী হয়েছেন। তবে প্রেগন্যান্সির শুরুতে এ লক্ষণগুলো খুব স্বাভাবিক।
আপনি আসলেই গর্ভবতী হয়েছেন কিনা বাড়িতে তা নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো ঘুম থেকে উঠে প্রস্রাব পরীক্ষা করা। এজন্য একটি প্রেগন্যান্সি কিটের প্রয়োজন হবে যা যে কোনো ফার্মেসিতে পাওয়া যাবে।
প্রেগন্যান্সি কিট ব্যবহার করে প্রেগন্যান্সি পরীক্ষা করার জন্য, সকালবেলা দিনের প্রথম প্রস্রাবের দু ফোটা কিটটিতে নিয়ে ২-৩ মিনিট রেখে দিতে হবে। যদি কিটটিতে দুইটি দাগ আসে তাহলে নিশ্চিত হতে হবে যে আপনি গর্ভবতী হয়েছেন। দুটো দাগের একটি দাগ অনেক সময় হালকা হয়, তবে সেক্ষেত্রেও দুটি দাগ ধরতে হবে এবং এটি গর্ভধারণ হয়েছে তা নিশ্চিত করে। এটা প্রেগন্যান্সি কিটের পজিটিভ ফল। এরপরেও ৪৮ ঘণ্টা পরে একইভাবে আরেকবার পরীক্ষা করা যেতে পারে এবং তখনও যদি পজিটিভ ফল আসে তাহলে নিশ্চিত হতে হবে যে আপনি গর্ভধারণ করেছেন।
মনে রাখবেন
আপনার শরীরের ভেতরে নতুন একটি জীবন বেড়ে ওঠার সাথে সাথে আপনার শরীরে বড় ধরনের কিছু পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। আপনার শরীরের ভাষা শুনুন এবং প্রয়োজন অনুসারে আপনার রুটিন পরিবর্তন করুন। প্রতিটি নারী যেমন আলাদা, একই ভাবে প্রতিটি গর্ভাবস্থার অভিজ্ঞতাও আলাদা।
কখন গর্ভসঞ্চার হয়েছে কিনা পরীক্ষা করতে হবে
গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখা দিলে, গর্ভসঞ্চার হয়েছে কিনা জানার জন্য প্রেগন্যান্সি কিটের মাধ্যমে বাড়িতে পরীক্ষা করা যায়। বাড়িতে প্রেগন্যান্সি কিট দিয়ে সঠিকভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ পিরিয়ড মিস হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। এর আগে পরীক্ষা করলে ভুল ফলাফল আসার সম্ভাবনা থেকে যায়। এ সময়ে অর্থাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার আগে যদি পরীক্ষা করে নেগেটিভ ফলাফল পান এবং তারপরেও গর্ভধারণের লক্ষণ দেখা যায় তাহলে কয়েক দিন অপেক্ষা করে আবারো পরীক্ষা করতে পারেন।
গর্ভধারণের শুরুতে করণীয়
- গর্ভধারণের প্রাথমিক চিহ্নগুলো মায়ের শরীরে দেখা দিলে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে নিশ্চিত হোন।
- গর্ভধারণ নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন ও পরামর্শ অনুসরণ করুন।
- খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনুন। কম সিদ্ধ খাবার, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার বাদ দিন। ধূমপান ও যে কোনো ধরণের মাদক এমনকি চা-কফি পরিহার করুন।
